ঈদের নামাজ কী ও কার উপর ওয়াজিব
ঈদের নামাজ বছরে দুইবার — ঈদুল ফিতর (রমজানের পরে) ও ঈদুল আযহা (কুরবানির দিনে) — আদায় করা হয়। হানাফি মাযহাব অনুযায়ী এটি ওয়াজিব।
| বিষয় | বিবরণ |
| হুকুম | ওয়াজিব (হানাফি মাযহাব) |
| কার উপর | প্রাপ্তবয়স্ক, সুস্থ, মুকিম (মুসাফির নয়) মুসলিম পুরুষের উপর। নারীদের জন্য ওয়াজিব নয়, তবে পড়তে পারেন। |
| সময় | সূর্যোদয়ের পর ইশরাকের সময় থেকে দুপুরের আগ পর্যন্ত |
| রাকাত | ২ রাকাত (অতিরিক্ত ৬টি তাকবিরসহ) |
| খুতবা | ঈদের নামাজের পরে দেওয়া হয় (জুমার বিপরীতে) |
| জামাআত | শর্ত — একা পড়া যায় না |
তাকবিরে তাশরিক (ঈদুল আযহার বিশেষ তাকবির)
জিলহজের ৯ তারিখ ফজর থেকে ১৩ তারিখ আসর পর্যন্ত প্রতিটি ফরজ নামাজের পরে একবার উচ্চস্বরে পড়া ওয়াজিব:
اللهُ أَكْبَرُ اللهُ أَكْبَرُ لَا إِلَٰهَ إِلَّا اللهُ وَاللهُ أَكْبَرُ اللهُ أَكْبَرُ وَلِلَّهِ الْحَمْدُ
আল্লাহু আকবার, আল্লাহু আকবার, লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়াল্লাহু আকবার, আল্লাহু আকবার, ওয়ালিল্লাহিল হামদ।
অর্থ: আল্লাহ মহান, আল্লাহ মহান, আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য উপাস্য নেই এবং আল্লাহ মহান, আল্লাহ মহান এবং সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য।
পুরুষ উচ্চস্বরে ও নারী নিঃশব্দে পড়বেন। একা ও জামাআতে উভয় ক্ষেত্রেই ওয়াজিব।
ঈদের নামাজের নিয়ত
ঈদুল ফিতরের নিয়ত
মূল ভার্সন
نَوَيْتُ أَنْ أُصَلِّيَ لِلهِ تَعَالَى رَكْعَتَيْ صَلَاةِ عِيدِ الْفِطْرِ وَاجِبَ اللهِ تَعَالَى مَعَ سِتَّةِ تَكْبِيرَاتٍ مُقْتَدِيًا بِهَذَا الْإِمَامِ مُسْتَقْبِلَ الْقِبْلَةِ
নাওয়াইতু আন উসাল্লিয়া লিল্লাহি তা'আলা রাক'আতাই সালাতি ঈদিল ফিতরি ওয়াজিবাল্লাহি তা'আলা মা'আ সিত্তাতি তাকবীরাতিন, মুকতাদিয়ান বিহাযাল ইমামি, মুসতাকবিলাল কিবলাহ।
অর্থ: আমি আল্লাহ তা'আলার উদ্দেশ্যে কিবলামুখী হয়ে এই ইমামের অনুসরণে ছয়টি অতিরিক্ত তাকবিরসহ ঈদুল ফিতরের দুই রাকাত ওয়াজিব নামাজ পড়ার নিয়ত করলাম।
প্রচলিত ভার্সন
نَوَيْتُ أَنْ أُصَلِّيَ لِلهِ تَعَالَى رَكْعَتَيْ صَلَاةِ عِيدِ الْفِطْرِ وَاجِبًا مَعَ سِتَّةِ تَكْبِيرَاتٍ مُقْتَدِيًا بِهَذَا الْإِمَامِ مُتَوَجِّهًا إِلَى جِهَةِ الْكَعْبَةِ الشَّرِيفَةِ اللهُ أَكْبَرُ
নাওয়াইতু আন উসাল্লিয়া লিল্লাহি তা'আলা রাকা'আতাই সালাতি ঈদিল ফিতরে ওয়াজিবান মা'আ সিত্তাতি তাকবীরাতিন, মুকতাদিয়ান বিহাযাল ইমামি, মুতাওয়াজ্জিহান ইলা জিহাতিল কা'বাতিশ শারীফাতি, আল্লাহু আকবার।
অর্থ: আমি আল্লাহ তা'আলার উদ্দেশ্যে পবিত্র কাবার দিকে মুখ ফিরিয়ে এই ইমামের অনুসরণে ছয়টি অতিরিক্ত তাকবিরসহ ঈদুল ফিতরের দুই রাকাত ওয়াজিব নামাজ পড়ার নিয়ত করলাম। আল্লাহু আকবার।
ঈদুল আযহার নিয়ত
মূল ভার্সন
نَوَيْتُ أَنْ أُصَلِّيَ لِلهِ تَعَالَى رَكْعَتَيْ صَلَاةِ عِيدِ الْأَضْحَى وَاجِبَ اللهِ تَعَالَى مَعَ سِتَّةِ تَكْبِيرَاتٍ مُقْتَدِيًا بِهَذَا الْإِمَامِ مُسْتَقْبِلَ الْقِبْلَةِ
নাওয়াইতু আন উসাল্লিয়া লিল্লাহি তা'আলা রাক'আতাই সালাতি ঈদিল আদহা ওয়াজিবাল্লাহি তা'আলা মা'আ সিত্তাতি তাকবীরাতিন, মুকতাদিয়ান বিহাযাল ইমামি, মুসতাকবিলাল কিবলাহ।
অর্থ: আমি আল্লাহ তা'আলার উদ্দেশ্যে কিবলামুখী হয়ে এই ইমামের অনুসরণে ছয়টি অতিরিক্ত তাকবিরসহ ঈদুল আযহার দুই রাকাত ওয়াজিব নামাজ পড়ার নিয়ত করলাম।
প্রচলিত ভার্সন
نَوَيْتُ أَنْ أُصَلِّيَ لِلهِ تَعَالَى رَكْعَتَيْ صَلَاةِ عِيدِ الْأَضْحَى وَاجِبًا مَعَ سِتَّةِ تَكْبِيرَاتٍ مُقْتَدِيًا بِهَذَا الْإِمَامِ مُتَوَجِّهًا إِلَى جِهَةِ الْكَعْبَةِ الشَّرِيفَةِ اللهُ أَكْبَرُ
নাওয়াইতু আন উসাল্লিয়া লিল্লাহি তা'আলা রাকা'আতাই সালাতি ঈদিল আদহা ওয়াজিবান মা'আ সিত্তাতি তাকবীরাতিন, মুকতাদিয়ান বিহাযাল ইমামি, মুতাওয়াজ্জিহান ইলা জিহাতিল কা'বাতিশ শারীফাতি, আল্লাহু আকবার।
অর্থ: আমি আল্লাহ তা'আলার উদ্দেশ্যে পবিত্র কাবার দিকে মুখ ফিরিয়ে এই ইমামের অনুসরণে ছয়টি অতিরিক্ত তাকবিরসহ ঈদুল আযহার দুই রাকাত ওয়াজিব নামাজ পড়ার নিয়ত করলাম। আল্লাহু আকবার।
ঈদের নামাজের সম্পূর্ণ পদ্ধতি (ধাপে ধাপে)
প্রথম রাকাত
- নিয়ত করুন — মনে মনে ঈদের নামাজের সংকল্প করুন
- তাকবিরে তাহরিমা — "আল্লাহু আকবার" বলে হাত বাঁধুন (স্বাভাবিক নামাজের মতো)
- সানা পড়ুন — "সুবহানাকা আল্লাহুম্মা..." (নিঃশব্দে)
- অতিরিক্ত ৩টি তাকবির — একটু থেমে তিনবার "আল্লাহু আকবার" বলুন। প্রতিটি তাকবিরের সময় হাত কান/কাঁধ পর্যন্ত তুলে ছেড়ে দিন — শুধু তৃতীয় তাকবিরের পর হাত বাঁধবেন।
- তাআউজ ও তাসমিয়া — আউযুবিল্লাহ ও বিসমিল্লাহ পড়ুন (নিঃশব্দে)
- সূরা ফাতিহা ও অন্য সূরা — ইমাম উচ্চস্বরে পড়বেন
- রুকু, সিজদা — স্বাভাবিক নিয়মে
দ্বিতীয় রাকাত
- সূরা ফাতিহা ও অন্য সূরা — ইমাম উচ্চস্বরে পড়বেন
- অতিরিক্ত ৩টি তাকবির — রুকুতে যাওয়ার আগে তিনবার "আল্লাহু আকবার" বলুন, প্রতিবার হাত তুলে ছেড়ে দিন
- চতুর্থ তাকবির — রুকুতে যাওয়ার তাকবির (হাত না তুলে)
- রুকু, সিজদা ও বৈঠক — স্বাভাবিক নিয়মে
- সালাম ফিরিয়ে নামাজ শেষ করুন
তাকবিরের সংখ্যা সহজে মনে রাখার উপায়:
প্রথম রাকাতে তাকবিরে তাহরিমার পরে ৩টি অতিরিক্ত তাকবির।
দ্বিতীয় রাকাতে কিরাআতের পরে, রুকুর আগে ৩টি অতিরিক্ত তাকবির।
মোট অতিরিক্ত তাকবির = ৩ + ৩ = ৬টি।
অতিরিক্ত তাকবিরের মাঝে কী পড়বেন
প্রতিটি অতিরিক্ত তাকবিরের পর হাত ছেড়ে দিয়ে তিন তাসবিহ পরিমাণ চুপ থাকবেন — অথবা নিচের তাসবিহটি নিঃশব্দে পড়বেন:
سُبْحَانَ اللهِ وَالْحَمْدُ لِلَّهِ وَلَا إِلَٰهَ إِلَّا اللهُ وَاللهُ أَكْبَرُ
সুবহানাল্লাহি ওয়ালহামদু লিল্লাহি ওয়ালা ইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়াল্লাহু আকবার।
অর্থ: আল্লাহ পবিত্র, সকল প্রশংসা আল্লাহর, আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য উপাস্য নেই এবং আল্লাহ মহান।
এই তাসবিহ পড়া সুন্নত, ফরজ নয় — না পড়লেও নামাজ সহিহ হবে।
ঈদের নামাজে ইমামের কিরাআত
হানাফি মাযহাব অনুযায়ী ঈদের নামাজে উচ্চস্বরে কিরাআত পড়া সুন্নত। সুন্নত হলো:
- প্রথম রাকাতে — সূরা আ'লা (সাব্বিহিসমা রাব্বিকাল আ'লা)
- দ্বিতীয় রাকাতে — সূরা গাশিয়াহ (হাল আতাকা হাদিসুল গাশিয়াহ)
- অথবা প্রথম রাকাতে সূরা কাফ, দ্বিতীয় রাকাতে সূরা কামার পড়া যায়
অন্য সূরা পড়লেও নামাজ সহিহ হবে — এটি সুন্নত, ওয়াজিব নয়।
ঈদের খুতবা
ঈদের নামাজ শেষে ইমাম দুটি খুতবা দেবেন — জুমার মতো নামাজের আগে নয়, নামাজের পরে।
| বিষয় | জুমার খুতবা | ঈদের খুতবা |
| সময় | নামাজের আগে | নামাজের পরে |
| হুকুম | শর্ত (ফরজ) | সুন্নত |
| শোনা | ওয়াজিব | সুন্নত |
| খুতবার মাঝে বসা | দুই খুতবার মাঝে বসা সুন্নত | একই |
ঈদের খুতবা শেষ না হওয়া পর্যন্ত মসজিদ বা ঈদগাহ ত্যাগ না করা উত্তম, তবে ওয়াজিব নয়।
ঈদের দিনের সুন্নত আমলসমূহ
ঈদুল ফিতরে
- গোসল করা
- সুন্দর ও পরিষ্কার পোশাক পরা
- সুগন্ধি ব্যবহার করা (পুরুষ)
- ঈদগাহে যাওয়ার আগে বেজোড় সংখ্যায় খেজুর বা মিষ্টি খাওয়া
- ঈদগাহে পায়ে হেঁটে যাওয়া
- এক রাস্তায় যাওয়া, ভিন্ন রাস্তায় ফেরা
- নিঃশব্দে তাকবির বলতে বলতে যাওয়া
ঈদুল আযহায়
- গোসল করা
- সুন্দর পোশাক পরা
- কুরবানির গোশত খাওয়ার আগে কিছু না খাওয়া সুন্নত
- উচ্চস্বরে তাকবিরে তাশরিক বলতে বলতে ঈদগাহে যাওয়া
- কুরবানি করা (সামর্থ্য থাকলে ওয়াজিব)
ঈদের তাকবির (উভয় ঈদে)
اللهُ أَكْبَرُ اللهُ أَكْبَرُ لَا إِلَٰهَ إِلَّا اللهُ وَاللهُ أَكْبَرُ اللهُ أَكْبَرُ وَلِلَّهِ الْحَمْدُ
আল্লাহু আকবার, আল্লাহু আকবার, লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়াল্লাহু আকবার, আল্লাহু আকবার, ওয়ালিল্লাহিল হামদ।
অর্থ: আল্লাহ মহান, আল্লাহ মহান, আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য উপাস্য নেই, আল্লাহ মহান, আল্লাহ মহান এবং সকল প্রশংসা আল্লাহর।
ঈদের নামাজ ছুটে গেলে করণীয়
ঈদের নামাজের কাজা নেই। ঈদের নামাজ ছুটে গেলে পরে একা বা জামাআতে আদায় করার সুযোগ নেই — কাজা হয় না। তবে ইমামের পেছনে কিছু রাকাত পেলে বাকি একা পড়া যাবে।
| পরিস্থিতি | করণীয় |
| প্রথম রাকাতে শামিল হলে | স্বাভাবিকভাবে পড়ুন |
| দ্বিতীয় রাকাতে শামিল হলে | ইমামের সাথে দ্বিতীয় রাকাত পড়ুন, সালামের পর উঠে প্রথম রাকাত পড়ুন — তবে তাকবিরের ক্রম সতর্কতার সাথে মেনে চলুন |
| সালামের পর এলে | নামাজ শেষ — কাজা নেই |