ফন্ট সাইজ
🏠 হোম

ওয়াক্তের ভিত্তি — কুরআনের নির্দেশ

إِنَّ الصَّلَاةَ كَانَتْ عَلَى الْمُؤْمِنِينَ كِتَابًا مَّوْقُوتًا
ইন্নাস্-সালাতা কানাত 'আলাল মু'মিনীনা কিতাবাম মাওকূতা।
অর্থ: নিশ্চয়ই নামাজ মুমিনদের উপর নির্দিষ্ট সময়ে ফরজ করা হয়েছে। (সূরা নিসা: ১০৩)
প্রতিটি নামাজের একটি নির্দিষ্ট শুরু ও শেষ সময় আছে। সময়ের আগে পড়লে নামাজ হবে না, সময়ের পরে পড়লে কাজা হয়ে যাবে।

পাঁচ ওয়াক্তের সময় — একনজরে

নামাজ শুরু শেষ মোস্তাহাব সময়
🌅 ফজর সুবহে সাদিক (ভোরের আলো) সূর্যোদয়ের আগে আলো ফোটার পর কিছুটা দেরিতে (ইসফার)
☀️ যোহর সূর্য হেলে পড়ার পর (যাওয়াল) প্রতিটি বস্তুর ছায়া তার দ্বিগুণ হওয়া পর্যন্ত গ্রীষ্মে একটু দেরিতে, শীতে জলদি
🌤️ আসর যোহরের ওয়াক্ত শেষে সূর্যাস্তের আগে (হলুদ হওয়ার আগেই পড়া উত্তম) ছায়া দ্বিগুণ হওয়ার পরপরই পড়া উত্তম
🌇 মাগরিব সূর্যাস্তের পর পশ্চিম আকাশের লালিমা মিলিয়ে যাওয়ার আগে সূর্যাস্তের সাথে সাথেই — বিলম্ব মাকরুহ
🌙 এশা পশ্চিম আকাশের লালিমা মিলিয়ে গেলে সুবহে সাদিক পর্যন্ত (মধ্যরাতের আগে পড়া উত্তম) রাতের প্রথম তৃতীয়াংশ পর্যন্ত

🌅 ফজরের নামাজ

সময়

শুরু: সুবহে সাদিক — পূর্ব দিগন্তে সাদা আলোর রেখা দেখা গেলে।
শেষ: সূর্যের উপরের কিনারা দিগন্তে উঠে আসার আগ পর্যন্ত।

সুবহে সাদিক ও সুবহে কাযিব পার্থক্য:
সুবহে কাযিব (মিথ্যা ভোর): রাতের মাঝে আকাশে লম্বালম্বিভাবে আলো দেখা যায়, কিছুক্ষণ পরে মিলিয়ে যায়।
সুবহে সাদিক (সত্যিকারের ভোর): পূর্ব দিগন্ত বরাবর প্রশস্তভাবে সাদা আলো ছড়িয়ে পড়ে — এটিই ফজরের শুরু।

মোস্তাহাব সময়

হানাফি মাযহাবে ইসফার (আলো একটু ফোটার পর) মোস্তাহাব — অর্থাৎ সুবহে সাদিকের পর কিছুটা আলো হওয়ার পর পড়া উত্তম, যেন ভুল না হয়।

মাকরুহ সময়

সূর্যোদয়ের একেবারে কাছাকাছি সময়ে ফজর পড়া মাকরুহ। সূর্য উঠে গেলে ফজর কাজা হয়ে যায়।

রাকাত

ধরন রাকাত বিবরণ
সুন্নতে মুয়াক্কাদা ফরজের আগে — অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ
ফরজ ইমামের পেছনে বা একা
বিশেষ ফজিলত: রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন: "ফজরের দুই রাকাত সুন্নত দুনিয়া ও তার মধ্যে যা আছে তার চেয়ে উত্তম।" (মুসলিম)

☀️ যোহরের নামাজ

সময়

শুরু: সূর্য ঠিক মাথার উপর থেকে পশ্চিমে একটু হেলে পড়লে (যাওয়াল)।
শেষ: হানাফি মতে — প্রতিটি বস্তুর মূল ছায়া বাদ দিয়ে ছায়া দ্বিগুণ হওয়া পর্যন্ত।

ছায়া পরিমাপের নিয়ম: দুপুরের ঠিক মাথার উপরে সূর্য থাকলে যে ছায়া থাকে সেটি হলো মূল ছায়া (ফাই-ই-যাওয়াল)। সেই মূল ছায়া বাদ দিয়ে যখন ছায়া বস্তুর দ্বিগুণ হবে, তখন যোহরের ওয়াক্ত শেষ।

কখন পড়া উত্তম

গ্রীষ্মকালে একটু ঠান্ডা হলে পড়া উত্তম (ইব্রাদ), শীতকালে জলদি পড়া উত্তম।

রাকাত

ধরন রাকাত বিবরণ
সুন্নতে মুয়াক্কাদা ফরজের আগে
ফরজ
সুন্নতে মুয়াক্কাদা ফরজের পরে
নফল ফরজের পরে (ঐচ্ছিক)

🌤️ আসরের নামাজ

সময়

শুরু: যোহরের ওয়াক্ত শেষ হওয়ার পরপরই।
শেষ: সূর্যাস্ত পর্যন্ত — তবে সূর্য হলুদ হওয়ার আগেই পড়া ওয়াজিব।

মাকরুহ সময়: সূর্য হলুদ বা লাল হয়ে গেলে আসর পড়া মাকরুহ তাহরিমি। তবে সেই অবস্থায় পড়লেও নামাজ আদায় হবে — কাজা করতে হবে না। সূর্য ডুবলে কাজা হয়ে যাবে।

রাকাত

ধরন রাকাত বিবরণ
সুন্নতে গায়রে মুয়াক্কাদা ফরজের আগে (ঐচ্ছিক কিন্তু ফজিলতপূর্ণ)
ফরজ
হাদিস: "যে ব্যক্তি আসরের নামাজ ছেড়ে দিল, তার আমল নষ্ট হয়ে গেল।" (বুখারি)

🌇 মাগরিবের নামাজ

সময়

শুরু: সূর্য সম্পূর্ণ অস্ত যাওয়ার পর।
শেষ: পশ্চিম আকাশের লালিমা (শাফাক আহমার) মিলিয়ে যাওয়া পর্যন্ত।

হানাফি মতে শাফাক কোনটি?
হানাফি মাযহাবে শাফাক আহমার (লাল আভা) বিলীন হওয়া পর্যন্ত মাগরিবের সময়। শাফেয়ি মতে সাদা আভা পর্যন্ত।

মোস্তাহাব সময়

সূর্যাস্তের সাথে সাথেই মাগরিব পড়া সুন্নত। বিনা কারণে দেরি করা মাকরুহ।

রাকাত

ধরন রাকাত বিবরণ
ফরজ
সুন্নতে মুয়াক্কাদা ফরজের পরে
নফল ঐচ্ছিক

🌙 এশার নামাজ ও বিতর

সময়

শুরু: পশ্চিম আকাশের লালিমা বিলীন হওয়ার পর।
শেষ: সুবহে সাদিকের আগ পর্যন্ত (তবে মধ্যরাতের আগে পড়া উত্তম)।

মধ্যরাতের হিসাব: সূর্যাস্ত থেকে সুবহে সাদিক পর্যন্ত মোট সময়ের অর্ধেক হলো মধ্যরাত। উদাহরণ: মাগরিব ৬টায়, ফজর ৫টায় হলে — মধ্যরাত হবে রাত ১১টা ৩০ মিনিটে।

রাকাত

ধরন রাকাত বিবরণ
সুন্নতে গায়রে মুয়াক্কাদা ফরজের আগে
ফরজ
সুন্নতে মুয়াক্কাদা ফরজের পরে
বিতর ওয়াজিব — এশার পর থেকে ফজরের আগে যেকোনো সময়
নফল ঐচ্ছিক
বিতর নামাজের বিশেষ বিধান: বিতর ওয়াজিব — ইচ্ছাকৃতভাবে না পড়লে গুনাহ হয়। তিন রাকাত একসাথে পড়তে হয়, মাঝে সালাম নেই (হানাফি মতে)। তৃতীয় রাকাতে সূরার পর তাকবির দিয়ে দোয়া কুনুত পড়তে হয়।

নামাজ পড়ার নিষিদ্ধ সময়

⚠️ নিচের তিনটি সময়ে কোনো নামাজ পড়া নিষিদ্ধ (ফরজ, সুন্নত, নফল সব):
সময় বিবরণ
সূর্যোদয়ের সময় সূর্য উঠতে শুরু করলে থেকে পুরোপুরি উদয় হওয়া পর্যন্ত (প্রায় ২০ মিনিট)
দুপুরের ঠিক মাথায় সূর্য ঠিক মাথার উপরে থাকার সময় (ইস্তিওয়া) — যাওয়ালের আগ পর্যন্ত (প্রায় ৫-১০ মিনিট)
সূর্যাস্তের সময় সূর্য হলুদ হয়ে অস্ত যাওয়া শুরু থেকে সম্পূর্ণ ডুবে যাওয়া পর্যন্ত
ব্যতিক্রম: এই তিন সময়ে আদায় করা যাবে না — তবে জানাজার নামাজ সূর্যাস্তের সময় পড়া জায়েজ (তবে মাকরুহ)। ফরজ নামাজের কাজা এই সময়ে পড়া যাবে না।

🕌 জুমার নামাজ

শুক্রবারে যোহরের পরিবর্তে জুমার নামাজ পড়তে হয়।

কার উপর ফরজ?

সময়

যোহরের সময়ের মতোই — সূর্য হেলার পর থেকে আসরের আগ পর্যন্ত।

রাকাত

ধরন রাকাত
সুন্নতে মুয়াক্কাদা (আগে)
ফরজ (জুমা)
সুন্নতে মুয়াক্কাদা (পরে)
সুন্নতে মুয়াক্কাদা (পরে)
নফল (পরে)
শর্ত: জুমা সহিহ হতে ইমাম ও কমপক্ষে তিনজন মুক্তাদি থাকতে হবে (হানাফি মতে), দুটি খুতবা দিতে হবে।

গুরুত্বপূর্ণ নফল নামাজের সময়

নামাজ সময় রাকাত গুরুত্ব
তাহাজ্জুদ রাতের শেষ তৃতীয়াংশ (এশার পর ঘুমিয়ে উঠে) ২-১২ (জোড়া জোড়া) অত্যন্ত ফজিলতপূর্ণ
ইশরাক সূর্যোদয়ের ১৫-২০ মিনিট পর ২-৪ একটি হজ-উমরার সওয়াব
চাশত/দুহা সকাল ৯টা থেকে যোহরের আগে ২-১২ ফজিলতপূর্ণ সুন্নত
আওওয়াবিন মাগরিবের পর গুনাহ মাফের ওসিলা
তাহিয়্যাতুল মসজিদ মসজিদে প্রবেশের পর বসার আগে সুন্নত
সালাতুল হাজত যেকোনো প্রয়োজনে দোয়া কবুলের মাধ্যম
সালাতুত তাওবা গুনাহের পর যেকোনো সময় তওবার সাথে পড়া সুন্নত